ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯শে অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টা ২৪ মিনিট থেকে শুরু করে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে এই লুটপাট চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ২৪ মিনিট ১১ সেকেন্ডে এক নারী দোকানের সামনে দাঁড়ান। এর কয়েক সেকেন্ড পর দুই যুবক দোকানের সাইনবোর্ড টেনে নামান। ১০টা ২৯ মিনিটে মাস্ক পরা কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ওই নারী কথা বলেন এবং ১০টা ৩১ মিনিটে পাশের দোকান থেকে গ্রাইন্ডিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে নির্দেশ দেন। ১০টা ৩২ মিনিটে তালা কাটা শুরু হয় এবং মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে সব তালা কেটে ফেলা হয়।
এরপর ১০টা ৪২ মিনিটে ওই নারীর ইশারায় ৬ জন যুবক দোকানের লোহার শাটার তোলেন। পরবর্তীতে ভিডিও ধারণ, মোবাইলে কথা বলা এবং কাগজ হাতে কিছু নির্দেশনার পর ১০টা ৫০ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দোকানের দুটি শাটার খোলা হয়। ১০টা ৫২ মিনিটে মাস্ক পরা এক ব্যক্তির নির্দেশে ওই নারী ও তার সহযোগীরা ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে দোকানের ভেতরের মালামাল বের করে আনেন। ১০টা ৫৪ মিনিট থেকে শুরু করে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দোকানের ভেতরের সিন্দুক ও স্বর্ণালংকার বাইরে আনা হয়। সবশেষে ১১টা ১২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডে দোকানের সামনে 'সুব্রত চন্দ্র দাস' নামের একটি ব্যানার সাঁটা হয়।
ভুক্তভোগী 'রিতা জুয়েলার্সের' মালিক গৌরাঙ্গ দাস জানান, তিনি বিশেষ প্রয়োজনে আদালতে থাকাকালীন দোকানটি বন্ধ ছিল। ফিরে এসে দেখেন তার দোকান থেকে ১৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই নারী স্থানীয় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী 'পায়েল'। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে পায়েল দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দখলবাজি ও লুটপাটে যুক্ত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জসীমউদ্দিন এবং আব্দুল খালেকসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনেদুপুরে দলবল নিয়ে এভাবে তালা কেটে লুটপাট হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দোকানটির ভোগদখলে থাকা হেলাল উদ্দিন জানান, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পায়েল ও সুব্রত দাসের নেতৃত্বে দোকান ভেঙে লুটপাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পায়েল সরকার তার বিরুদ্ধে আনা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "সেখানে আমিসহ আরও হাজার হাজার মানুষ ছিলেন, আমার নেতৃত্বে লুটপাটের বিষয়টি মিথ্যা। যার জমি তার নেতৃত্বেই হয়েছে।" অপর অভিযুক্ত সুব্রত চন্দ্র দাস এ বিষয়ে মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দৈনিক সমীকরণ